জরায়ু মুখের ক্ষত (Cervicitis) ও প্রদাহে (Cervical Erison)

জরায়ু মুখের ক্ষত (Cervicitis) ও প্রদাহে (Cervical Erison)

জরায়ু নারীর অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ । নারীত্ব ও মাতৃত্বের জন্য অপরিহার্য অঙ্গ জরায়ু।  বাংলাদেশের নারীদের প্রায় অর্ধেক নারীই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে জরায়ু মুখের ক্ষত (Cervicitis) ও জরায়ু মুখের প্রদাহে (Cervical Erison) ভুগে থাকেন। এ ধরনের ক্ষত বা প্রদাহ থেকে সৃষ্ট ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী নারী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ । বিশ্বে প্রতিদিন জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন গড়ে ৭ শ’ নারী । প্রতি বছর এই রোগে আক্রান্ত হন প্রায় ৫০ লাখ নারী । বাংলাদেশে প্রতি বছর জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ১৭ হাজার নারী । দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৭ জন ও বছরে প্রায় ১০ হাজার নারী জরায়ু মুখের ক্যান্সারে মারা যাচ্ছেন।

বাচ্চা প্রসব, গর্ভপাতের (এমআর, ডিএ্যান্ডসি) পর অথবা যেকোনো সময় বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাসের সংক্রমণ, বাহ্যিক আঘাত, জন্মবিরতিকরণে ব্যবহৃত ওষুধের রাসায়নিক ও ঋতুস্রাব চলাকালে ব্যবহৃত উপকরণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে জরায়ু মুখের প্রদাহ হতে পারে। এ ছাড়া জরায়ু মুখের বাইরের দৃঢ় ও শক্ত আবরণী (Squamous Epithelium) ভেতরের পাতলা আবরণী (Columnar Epithelium) দিয়ে প্রতিস্থাপিত হলেও ক্ষতের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘস্থায়ী জীবাণু সংক্রমণ কোনো কোনো সময় ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। যৌন-সক্রিয় প্রতিটি নারীই অপরিচ্ছন্ন যৌন আচরণ ও সংস্পর্শের মাধ্যমে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

সাধারণত সংক্রমণের শুরু থেকে ২০ বছরের মধ্যে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের লক্ষণ প্রকাশ পায়। ১৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের জরায়ু মুখের প্রদাহ, ক্ষত ও ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। বিশ্বের উন্নত দেশের মতো জরায়ু কেটে না ফেলে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশেও হচ্ছে। কাটা-ছেঁড়া ছাড়া, রক্তপাতহীন ও ঝুঁকিমুক্ত অত্যাধুনিক লেজার ভেপোরাইজেশন পদ্ধতির চিকিৎসায় নারীত্ব ও মাতৃত্ব অক্ষুণ্ন রেখে  স্বল্প সময়ে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।