ঘাড় ব্যথা বা Cervical Spondylosis এর কারণ ও লক্ষণ

ঘাড় ব্যথা বা Cervical Spondylosis এর কারণ ও লক্ষণ

আঘাতজনিত মাংসপেশীর ব্যথা ছাড়াও নানাবিধ কারণে ঘাড়ে ব্যথা হয়ে থাকে। তবে অন্যতম কারণ মেরুদন্ডের ডিস্কের স্থানচ্যুতি বা ডিস্ক প্রোল্যাপ্স। যা প্রচলিত ভাষায় মেরুদন্ডের হাড়ের বৃদ্ধি বা হাড়ের ফাঁক হয়ে যাওয়া নামে অধিক পরিচিত।

যেসকল কারণে ঘাড় ব্যথা হতে পারে-

Neck Pain f

* বাহ্যিক আঘাত বা দূর্ঘটনা

* ভারী ওজন ওঠানো

* স্থুলতা বা অতিরিক্ত শারীরিক ওজন

* দীর্ঘক্ষণ অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গিতে কাজ করা

* বয়সজনিত কারণে হাড়ের ক্ষয়

 

 ডিস্কের স্থানচুতির ফলে ঘাড় ব্যথার যে সকল লক্ষণ দেয়া যায় তা হলো-

  • দাড়ানো বা বসা অবস্থায় ঘাড়ে ব্যথা অনুভূত হওয়া
  • ঘাড় থেকে উৎপন্ন ব্যথা হাতে ছড়িয়ে পরা
  • প্রাথমিক পর্যায়ে কাঁধ ও হাতে ব্যথা
  • হাতের বিভিন্ন অংশে ঝিন-ঝিন, শিন শিন করা
  • হাতের বোধ শক্তি কমে আসা পর্যায়ক্রমে হাতের অসারতা
  • ধীরে ধীরে হাত দূর্বল হয়ে হাতের কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া
  • চুড়ান্ত পর্যায়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা
  • ঘাড় থেকে শরীরের নিচের অংশ দূর্বল হতে থাকে এবং পর্যায়ক্রমে হাটার শক্তি হাড়িয়ে যায়।

সার্ভাইক্যাল ডিস্ক প্রোল্যাপ্সের ক্ষেত্রে ঘাড়ের মেরুদন্ডের হাড় সরে গিয়ে ঐ স্থানে অবস্থিত স্নায়ুমূলে চাপ দেয় ফলে ঐ নার্ভ ও সম্পৃক্ত স্থানে ব্যথার সৃষ্টি হয়। এ জাতীয় ব্যথাকে সার্ভাইক্যাল রেডিওকোলোপ্যাথি বলা হয় ।  ঘাড়ের মেরুদন্ড ৭টি হাড় বা কশেরুকা নিয়ে গঠিত। এদেরেকে যথাক্রমে C1-C7 নামে চিহ্নিত করা হয়। যে অংশে সবচেয়ে বেশী হাড়ের স্থানচ্যুতি হতে দেখা যায় তা হলো-

C5-C6 লেভেল (সার্ভাইক্যাল-৫ ও সার্ভাইক্যাল-৬) এবং C6-C7 (সার্ভাইক্যাল-৬ ও সার্ভাইক্যাল-৭ লেভেল)। আর C4-C5 লেভেল মাঝে মাঝে এবং C7-T1 লেভেল কদাচিৎ ডিস্ক সরে যেতে দেখা যায়।

সার্ভাইক্যাল হার্নিয়েটেড ডিস্কের ফলে যে সকল ব্যথা স্নায়ুবিক দূর্বলতা দেখা দেয়:-Hend Pain f

  • C4-C5(C5 স্নায়ুমুল): হাতের উপরের অংশের ডেল্টয়েড মাসল দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে সাধারণত ঝিন ঝিন ও শিন শিন করে না, তবে কাধের ব্যথা হতে পারে।
  • C5-C6(C6 স্নায়ুমুল): হাতের বাইসেপ মাসেল এবং কব্জির মাংস পেশী দূর্বল হয়ে যায়। অবশ হওয়া ও ঝিন ঝিনসহ ব্যথা বৃদ্ধঙ্গুলির দিকে ছড়িয়ে যায়। এই লেভেলেই সবচেয়ে বেশী সার্ভাইকেল ডিস্ক হার্নিয়েশন হয়ে থাকে।
  •  C6-C7(C7 স্নায়ুমুল): এর ফলে হাতের ট্রাইসেপ মাসল ও আঙ্গুলের পেশী দূর্বল হয়ে যায়। অবশ হওয়া ও ঝিন ঝিনসহ ব্যথা মধ্যমা আঙ্গুলির দিকে ছড়িয়ে যায়। এই লেভেলেই অনেক বেশী সার্ভাইকেল ডিস্ক হার্নিয়েশন হয়ে থাকে।
  • C7-T1(C8 স্নায়ুমুল): এর ফলে হাতের মুঠোয় কিছু ধরার শক্তি হ্রাস পায় ও কোনো আঙ্গুল অবশ হয়ে পড়ে। ঝিন ঝিন করে এবং ব্যথা ছড়েয়ে পড়ে।

ব্যথার উপসর্গ সকল রোগীর ক্ষেত্রে একরকম নয় তাই ভিন্ন ভিন্ন রোগীর ক্ষেত্রে হাতের ব্যথা ও অন্যান্য লক্ষণ আলাদা আলাদা হয়। ঘাড়ের মেরুদন্ডের মাঝে ডিস্কের ও কশেরুকার আকার ছোট বলে ঘাড়ের নার্ভরুটের জায়গাও অত্যন্ত ছোট হয় ফলে ঘাড়ের মেরুদন্ডের ডিস্কের সামান্য স্থানচুত্যির জন্য নার্ভে অনেক চাপ পড়ে ও অত্যাধিক মাত্রায় ব্যথা হয়। ঘাড়ের নার্ভরুটের চাপের ফলে সৃষ্ট জটিলতা মেরুদন্ডের যে কোন অংশের স্থানচ্যুতি অপেক্ষায় মারাত্বক ব্যথার সৃষ্টি হয়। প্রথমিক অবস্থায় ঘাড়ের ডিস্ক প্রোলাপ্সের চিকিৎসা করা না হলে রোগী এক পর্যায়ে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। ডিস্ক প্রোলাপ্স জনিত ঘাড় ব্যথায় ক্রমাগত ব্যথানাশক খাওয়ার পরিবর্তে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে রোগ নির্ণয় করতে হবে।